বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পদদলিতে নিহত ১০ হিন্দু

10 Hindus killed in Chittagong
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পদদলিতে নিহত ১০ হিন্দু
10 Hindus killed in Chittagong
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পদদলিতে নিহত ১০ হিন্দু

বাংলাদেশ  চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে নগরীর ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।  অমুসলিম দের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা হয়েছিল ওই রীমা কমিউনিটি সেন্টারে। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রায় ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিবিদ স্থানীয়ভাবে ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়। দুই তলা ওই কমিউনিটি সেন্টার ভবনের নিচতলায় মূলত গাড়ি রাখা হয়। বসা ও খাওয়ার ব্যবস্থা দোতলায়।  নিচু এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার অধিকাংশ ভবনের মত রীমা কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথও বেশ খানিকটা ঢালু। সেখানেই ভিড়ের মধ্যে পদদলনের ঘটনায় নিহত ১০ হিন্দু। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন কৃষ্ণপদ দাশ (৪৫), সুধীর দাশ (৫০), ঝন্টু দাশ পিন্টু (৪৫), প্রদীপ তালুকদার (৪৬), লিটন দেব (৪৩), দীপঙ্কর দাশ রাহুল (২৬), সত্যবত ভট্টাচার্য্য (৪২), অলক ভৌমিক (৩২) ও ধনা শীল (৬০)। এদিকে রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিহতদের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তরের অনুমতি দিতে আহ্বান জানান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুকুর রহমান সিকদার পরে বলেন, তারা ‘বিধি মোতাবেক’ ব্যবস্থা নেবেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা এবং শেষকৃত্যের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী। আগে মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নানের সময় পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়।  কৃষ্ণপদ দাসের স্বজনেরা এত শোক কীভাবে সইবেন! এক মাস দুই দিন আগে কৃষ্ণপদ দাসের মা সীতারানী দাস মারা যান। দুই দিন আগে মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়া করেন কৃষ্ণপদ। গতকাল তিনি পদদলিত হয়ে মারা যান। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন বোন সাগরিকা দাস। জরুরি বিভাগের ফটকের সামনে বসে বিলাপ করছিলেন তিনি। বলেন, ‘অ ভাই, সুখে-দুখে আমরা ছিলাম। মা চলে গেল। তুইও চলে গেলি।  কৃষ্ণপদ দাশ মাছ ধরার জাল বিক্রি করতেন। সুধীর দাশ ছিলেন জেলে। ঝন্টু দাশ পিন্টু নগরীর এপোলা শপিং সেন্টারের এক দোকানে চাকরি করতেন। প্রদীপ তালুকদার ঠিকাদারি  আর লিটন দেব ওষুধের দোকান চালাতেন।