বাংলাদেশের রংপুরের ঠাকুরবাড়ী গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ

Bangladesh Hinduism
বাংলাদেশের রংপুরের ঠাকুরবাড়ী গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,

আজবাংলা  ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রংপুরের সদর উপজেলার ঠাকুরবাড়ী গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে শুক্রবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। রাতে অনেকের পেটে কোনও দানা-পানিও পড়েনি। সকালেও নাস্তা জোটেনি অনেকের।এখানকার শত শত হিন্দু পরিবার এখন আছে নিরাপত্তাহীনতায়। আবারও হামলার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য দুলালী রানীর অভিযোগ, ‘বিকালে হঠাৎ অনেকে মিছিল নিয়ে এসে কোনও কারণ ছাড়াই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে গরু লুট করে নিয়ে গেছে। এমনভাবে তারা হামলা চালিয়েছে যে ঘরের মালপত্র সরানোর মতো সময় পাইনি আমরা। ঘরের আসবাবপত্রসহ হাড়ি-পাতিল সব পুড়ে গেছে। রাতে থাকার কোনও জায়গা নেই, রান্না করে খাওয়ারও কোনও উপায় নেই।’ তবে প্রসাশন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। ‘কোন জায়গায় কী হলো, ফেসবুক নামের কোন জাগার কে কে লেখিল, হামরা এগুলোর কিছুই জানি না। হামার ঘর মানুষজন আসি কেনে পুড়ি দেলে?’

Bangladesh Hinduism
বাংলাদেশের রংপুরের ঠাকুরবাড়ী গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,

এ প্রশ্ন ঘরপোড়া অমুন্য রায়ের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আটটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এতে দুটি ঘর পুড়েছে অমুন্য রায়ের। ওই ঘটনায় ছয়টি ঘর পুড়েছে সুধীন রায়ের। তিনি জানালেন, তাঁর ছয়টি ঘরের সব আসবাব, গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন কীভাবে ঘর তুলবেন, কীভাবে জীবন চালাবেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না তিনি। এমন করে করুণ অভিব্যক্তি ব্যক্ত করলেন ঘর পুড়ে যাওয়া বিধান রায়, কৌশল্য রায়, কুলিন রায়, হিরণ রায় ও দীনেশ। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেল, মানুষের মধ্যে এখনো শঙ্কা কাটেনি। ঘরপোড়া শতাধিক মানুষ রাতভর জেগে ছিলেন। উৎকণ্ঠায় তাঁদের রাত কেটেছে। পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো ধ্বংসস্তূপের মতো পড়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, রাতে পাশের গ্রামে কারও কারও বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল তারা। গ্রামে সকাল পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে গেছেন। তিনি ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সবার সঙ্গে কথা বলছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য গ্রামবাসীকে অনুরোধ করছেন। রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়ায় টিটু চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ওই এলাকার কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

Leave a Reply