বাংলাদেশের হিন্দু সাংবাদিক উৎপল দাস নিখোঁজ হয়ার ৭০ দিন পর উদ্ধার ।

Bangladesh Journalist Reporter After 70 days of disappearance of Hindu journalist Utpal Das
সাংবাদিক উৎপল দাস
Bangladesh Journalist Reporter After 70 days of disappearance of Hindu journalist Utpal Das
সাংবাদিক উৎপল দাস

আজবাংলা বাংলাদেশ  মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার আধুরিয়া শাহজালাল সিএনজি স্টেশনে উৎপল দাসকে উদ্ধার করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম। তাঁকে উদ্ধারের খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে যান পরিবারের সদস্যরা।  মঙ্গলবার রাতে উৎপলের বন্ধু  সাংবাদিকদের জানান, উৎপল‌কে পাওয়া গে‌ছে। আমার স‌ঙ্গে কথা হ‌য়ে‌ছে। সে এখন বা‌ড়ির প‌থে। গত ১০ অক্টোবর রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন পূর্বপশ্চিম ডট নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেন উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস এবং পূর্বপশ্চিমের সম্পাদক খুজিস্তা নূরে নাহরীন। পুলিশের তথ্যনুযায়ী, তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায়। ১০ অক্টোবর বেলা একটা ৪৭ মিনিট থেকে তার ফোন বন্ধ থাকে। উৎপল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিকরা উৎপলের সন্ধানের দাবিতে রাজপথে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন। উৎপল দাস বলেন, ‘আমাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় তিন-চার ঘণ্টা একটা গাড়িতে করে ঘোরানো শেষে এখানে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না। আমাকে এখানে নামিয়ে দেওয়ার সময় আমার চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে তাঁরা বলেছেন—আমরা যখন গাড়ি টান দেবে তখন তুই চোখ খুলবি। আমি যখন সিএনজি স্টেশনে ঘোরাফেরা করছিলাম, তখন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম গিয়ে আমাকে সিএনজি স্টেশন থেকে নিয়ে আসেন। উৎপল আরও বলেন, ‘ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে দুপুরে আমাকে পেছন থেকে অপহরণ করা হয়। আমাকে তুলে নেওয়ার সময় কাউকে দেখতে পাইনি। পরে আমাকে একটি টিনশেড নরমাল একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তিন বেলা দরজার নিচ থেকে নরমাল খাবার দেওয়া হতো। সেখানে চৌকি বা খাট ছিল না, ফ্লোরের মধ্যে থাকতে হয়েছিল। ওই ঘরে এটাচ বাথরুম ছিল। সেখানে স্নান করতাম।’ নির্যাতন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে কিছু চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে। তারা আমাকে বলত, তোর অনেক টাকা। তুই টাকা দে। উৎপল দাসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকার সাংবাদিক রাজীব আহমদ জানান রাতে হঠাৎ করেই ভাইবারে সচল দেখা যায় উৎপলকে। এরপরই একজন সাংবাদিক তাকে কল দিলে উৎপল দ্বিতীয় দফায় সেটি রিসিভ করেন।