অসমে বসবাসকারী বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু, নিশ্চিন্তে হিন্দুরা।

Beginning to identify illegal Bangladeshi infiltrators living in Assam,
অসমে বসবাসকারী বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু,
 Beginning to identify illegal Bangladeshi infiltrators living in Assam,
অসমে বসবাসকারী বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু,

আজবাংলা অসমে বসবাসকারী বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার ব্যাপক প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে ওই তালিকা বেরিয়েছে। ১ কোটি ৩৯ লাখ বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ ঘটেছে । বৈধ ভারতীয় নাগরিক বলে স্বীকৃতি চেয়ে মোট ৩ কোটি ২৯ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ১ কোটি ৯০ লক্ষের নাম উঠেছে প্রথম তালিকায়। রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশের সময় বলেন, চলতি বছরেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হবে। রাজ্যের ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখের নাম প্রথম তালিকায় রয়েছে। অন্যদের নাম যাচাইয়ের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। আসামের  নাগরিকত্ব নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০১৫ সালের মে মাসে। অসম চুক্তি অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে যারা এই রাজ্যে বসবাস করছেন, তাঁরাই নাগরিকত্বের অধিকারী। সেই সূত্র মেনেই এনআরসি-তে নাম তোলার প্রক্রিয়া চলেছে। ১৯৫১ সালের পরে এই প্রথম অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী নবীকরণে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্বিতীয় তালিকায় বৈধ নাগরিকদের নাম থাকবে। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত আসামে আসা হিন্দুরা নিশ্চিন্ত। তবে ‘বিদেশি’ মুসলিমদের রাজ্য ছাড়তে হবে। কংগ্রেস অবশ্য মনে করে, আসামে বিদেশি শনাক্তকরণের নামে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করছে বিজেপি। তবে এই  তালিকায় নাম নেই বিরোধী নেতা, ধুবড়ির সাংসদ অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) প্রধান বদরুদ্দিন আজমল, তাঁর ছেলে ও যমুনামুখের বিধায়ক আবদুর রহিম আজমল, তাঁর ভাই  বরপেটার এমপি সিরাজুদ্দিন আজমলের। এতে প্রবল অসন্তুষ্ট আজমল পরিবার । বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল। মনমোহন সরকারের আমলেই অসমে নাগরিক পঞ্জি তৈরির কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। ২০১০ সালে ‘পাইলট প্রোজেক্ট’ হিসেবে এই কাজ শুরু হয় বরপেটা ও কামরূপ জেলায়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে রাজ্যের সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন আমসু। পুলিশের গুলিতে চার আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার পরে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তালিকা প্রকাশের আগে আসামজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অন্তত ৪৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী গোটা রাজ্যে মোতায়েন রয়েছে, সেনাবাহিনীকেও ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখা হয়। গোয়েন্দা সূত্র মতে, তালিকা প্রকাশের পর আসামের বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় গণ্ডগোল হতে পারেন এ আশঙ্কা ছিল। তবে তালিকা প্রকাশের পর কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি।