মৃত শিল্পীরা পৌষসক্রান্তীকে কেন্দ্র করে ব্যাস্ততা

concentrating on the centenarians
পৌষসক্রান্তীকে কেন্দ্র করে ব্যাস্ততা
concentrating on the centenarians
পৌষসক্রান্তীকে কেন্দ্র করে ব্যাস্ততা

শঙ্কর গুপ্তা উত্তর দিনাজপুর   বাঙ্গালীর বারোমাসের তেরো পার্বণ। আরএই তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ হল পৌষ পার্বণ। কথিত আছে সব তির্থবারবার গঙ্গা সাগর একবার এই গঙ্গা সাগরে পৌষসক্রান্তিকে কেন্দ্র করে প্রতিটিবাঙালী পিঠে পুলির উৎসবেঅর্থাৎ পৌষ পার্বনে মেতেওঠে। এই সময় শহর থেকেগ্রামে একান্নবর্তী পড়িবারসর্বত্রই ঠাকুর মা, মাসিমা,দিদিমারা প্রতি বছর শীতপড়তেই ঢেঁকিতে চালের গুঁড়াতৈরি করে রৌদ্রে শুকিয়ে কৌটোযাত করতেন।। এই পিঠেপুলিতৈরি করতে প্রয়োজন মাটিরতৈরি সরা।  যা তৈরিতে বেশকয়েকদিন ধরে অক্লান্তপরিশ্রম যাচ্ছেন উত্তরদিনাজপুর জেলারকালিয়াগঞ্জের মুস্তাফানগরের পাল পাড়ার  মৃতশিল্পিরা।শীতকে উপেক্ষাকরে  এঁটেল মাটির সাথেপ্রয়োজন মত জল মিশিয়েবেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সেইমাটিকে মাখিয়ে সরা তৈরিরউপযোগী করে তোলা হয়। এরপর নরম মাটিকে সাঁচেফেলে বিভিন্ন আকৃতির সরাতৈরি করা হয়। কোনও সরারনাম এক খুঁটির সরা আবারকোনটা সাত খুঁটির সরা।প্রতিটি সরাতে একটি করেমাটির ঢাকনাও তৈরি করেনমৃতশিল্পীরা। যা চলতি ভাষায়ঢাকন নামে পরিচিত। এরপরসেই সরা গুলিকে রৌদ্রেশুকিয়ে আগুনে পোরানোহয়। তারপর সেগুলিকেএকটি একটি করে বাছাইকরে তা পাইকারি ও খুচরোহিসেবে বিক্রি করা হয়।আকৃতি অনুযায়ী একটি সরাসহ ঢাকনা মিলিয়ে  তৈরীকরা হয়  বলে জানান মৃতশিল্পীরা। একদিকে কয়েকদিন ধরে জাকিয়ে  ঠান্ডাপড়ায়  তাঁদের মাটির কাজকরতে অসুবিধা হয় ।তবুওএকটু বেশি মুনাফা লাভেরআশায় তাঁরা পৌষ পার্বণউপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সরাবানান বলে জানান শিল্পীশান্তি পাল।এলাকার বেশিরভাগ  বাড়িতে  তিন , চার ধরনের সরা বানিয়ে বিক্রিকরেন মৃত শিল্পীরা।  তাঁদেরহাতের তৈরী বিভিন্ন ধরনেরসরা গুলি শুধু কালিয়াগঞ্জেবিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হয়। বিভিন্ন জায়গারপাইকারেরা এসে তাঁদের সরাগুলি নিয়ে যায় বিক্রি করারজন্য। যত সামান্য লাভহলেও বাপ ঠাকুরদারআমলে কাজ সেখা ,তাইতাঁরা মাটির কাজ চালিয়েযাচ্ছেন।পাইকারি বাজারে১০ টাকা থেকে ১২ টাকাপর্যন্ত বিক্রি এবং খুচরোবাজারে তা ১৫ টাকা থেকে২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেনমৃতশিল্পীরা। যাই হোক হাতেআর চার পাচ দিন তাঁর পরেইআপাময় বাঙালী মেতেউঠবেন পৌষ সক্রান্তিউৎসবে,আর সেই উপলক্ষ্যেঘড়ে ঘড়ে তৈরী হবে নানাধরনের জিভে জল আনাপিঠা পুলি।