দিল্লি পুর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

                                                     Aaj Bangla : রবিবার সকাল ৮টা থেকে দিল্লির তিনটি পুরসভা কেন্দ্রের ২৭০টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে দিল্লির মসনদে রয়েছে আম আদমি পার্টি। পুরভোটে তাদের কড়া ট্ক্কর দিচ্ছে বিজেপি এবং কংগ্রেস।

২০১২ সালে  দিল্লি পুরসভাকে তিনটি কেন্দ্রে ভাগ করা হয়, উত্তর দিল্লি পুরসভা ‌(‌‌এনডিএমসি)‌, পূর্ব দিল্লি পুরসভা (‌ইডিএমসি)‌ এবং দক্ষিণ দিল্লি পুরসভা (‌এসডিএমসি)‌। তিনটি কেন্দ্রে মোট ২৭২টি ওয়ার্ড রয়েছে। যারমধ্যে উত্তর এবং দক্ষিণ দিল্লি পুরসভা কেন্দ্রে ১০৪টি করে আসন রয়েছে। পূর্ব দিল্লি পুরসভা কেন্দ্রে রয়েছে ৬৪টি আসন। তিনটি কেন্দ্রেই বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছেন বিজেপি। সেখানকার মোট ভোটদাতার সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। যার মধ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ এই প্রথমবার ভোট দেবেন। এ বছরের নির্বাচনেই পরথমবার ‘‌নোটা’‌–তে ভোট দিতে পারবেন মানুষ। ভোট গণনা হবে আগামী ২৬ এপ্রিল।

ধারে এবং ভারে বেশ এগিয়ে বিজেপি। সদ্য সমাপ্ত উপনির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে বাকিদের চেয়ে ঢের এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তৃতীয়বারের জন্য দিল্লিতে সরকার গড়তে বদ্ধপরিকর তারা। আম আদমির অবস্থা বেশ শোচনীয়।  দু’‌বছর আগে দিল্লির রাজনীতিতে হঠাৎই আগমন ঘটেছিল আম আদমি পার্টির। কিন্তু আম আদমি পার্টির এখন দিল্লির মাটিতে নিজেদের অস্তিত্ব ঠেকাতে মরিয়া। আম আদমি পার্টির মুুুুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জনপ্রিয়তায় ভর করে ৭০টির মধ্যে ৬৭টি আসনে জয়লাভ করে আপ। বাকি তিনটি বিজেপির দখলে যায়। তবে গত দু’‌বছরে রাজধানীর চিত্র পাল্টেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তাই যথেষ্ট ভেবেচিন্তেই পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী নামিয়েছে তারা।

রাজধানীতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া কংগ্রেসও। কিন্তু একের পর এক বিদ্রোহী নেতাদের নিয়ে জেরবার তারা। প্রায় প্রতিদিনই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কেউ না কেউ। বর্ষীয়ান নেতা অজয় মাকেনের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন দিল্লি মহিলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বরখা সিং শুক্লাও।

তবে সবথেকে খারাপ অবস্থা কেজরিওয়ালের আপের। দু’‌বছর আগে তাদের যে প্রতিপত্তি ছিল, আজ তার বিন্দুমাত্রও অবশিষ্ট নেই। এখন এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুর নির্বাচনে বাজিমাত করে কে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।