রাজ্যের সবং উপ নির্বাচনে বিজেপি এক বছরে ৫ হাজার থেকে ৩৭ হাজারে

the state, in the by-elections of the sub-district
সবং নির্বাচন

আজবাংলা   এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি! আর এই সাফল্যই সবংয়ে বিজেপিকে তুলে এনেছে তিন নম্বরে। দু’নম্বরে থাকা সিপিএমের ঘাড়ের ওপর কার্যত নিঃশ্বাস ফেলছে তারা,  সবং উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল ভোট বেড়েছে। দেড়বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল  ৫,৬১০টি ভোট। উপনির্বাচনে বেড়ে হয়েছে  ৩৭  হাজার ৭৪৬। বিজেপির ভোটবৃদ্ধিতে তৃণমূলের ঘুম কাড়ছে। মানস ভুঁইয়ার নিশ্ছিদ্র এবং বিজেপি-হীন গড়েই যদি রাতারাতি বিজেপির প্রায় ৩২ হাজার ভোট বেড়ে যায়, তাহলে রাজ্যজুড়ে যেসব কেন্দ্রে বিজেপি আছে, সেখানকার অবস্থা এখন কেমন? রীতিমতো চিন্তার বিষয়। সবংয়ের মতো গেরুয়াহীন শুষ্কভূমিতে যদি কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে এবং সিপিএমের থেকে মাত্র ৪৫১১ ভোট কম পেয়ে বিজেপি তৃতীয় স্থান দখল করতে পারে, তাহলে আগামীদিনে অনেক বড় “সমস্যা”-য় শাসক দলকে পড়তেই হবে। সবং-এ অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের নমুনা সবাই দেখেছে । এই জয়কে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী অন্তরা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হয়নি। ছাপ্পা ভোট হয়েছে। যে জয়ের জন্য ভোটের সময় তাণ্ডব চালিয়েছিল তৃণমূল, সেই জয় তারা পেয়েছে।’ এপ্রসঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলের ১ লাখ ২৬ ভোট ছিল। মানস তৃণমূলের কাঁধে চেপে ভোট হল ১ লাখ ৬। ২০ হাজার ভোট কমেছে। আমাদের ৩২ হাজার ভোট বাড়ল। ভোট কমল সিপিএম, কংগ্রেসের। বাড়ল কার বিজেপির।  ২০১৪ সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ৭ শতাংশ ভোট। গত বছর উপনির্বাচনে সেটাই বেড়ে হয়েছিল প্রায় ১৬ শতাংশ! এমনকি এই ফলের নিরিখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে!  ২০১৪ সালে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের উপনির্বাচনে সেটাই বেড়ে হয় প্রায় ২৯ শতাংশ! কোচবিহারে বামেদের পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বিজেপি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, দক্ষিণ কাঁথিতে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ৯ শতাংশ। কিন্তু ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে ভোট শতাংশ প্রায় ৩১ শতাংশে নিয়ে যায় বিজেপি! একেবারে দ্বিতীয় স্থানে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে উপনির্বাচনে বিরাট কিছু পরিবর্তন হয় না। তাই শাসক দলের পক্ষেই ভোট দেন ভোটাররা। উল্লেখযোগ্যভাবে কম ভোট পড়লেও  বিজেপির ভোটপ্রাপ্তিও ৭গুন বেড়েছে। ফল ঘোষণার আগেই জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী ঘোষণা করেদেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তাঁর দাবি, সবং বিধানসভা উপ-নির্বাচনের ফলফলে ছক্কা মারবে শাসকদল। তাই ছক্কা মারলো শাসকদল।

তৃণমূল- ১,০৬,১৮৫   সিপিএম- ৪১,৯৮৯  বিজেপি- ৩৭,৪৮৩ কংগ্রেস- ১৮,০৬৩ এসইউসিআই- ২,০৭৯  ভোট পড়েছে- ২,০৫,৭৯৯


২০১৬ সালের বিধানসভা    কংগ্রেস ও সিপিএম জোট- ১,২৭,৯৮৭ তৃণমূল কংগ্রেস- ৭৭,৮২০ বিজেপি- ৫,১৬০ এসইউসিআই- ২,৪৮৬  ভোট পড়েছে- ২,১২,৯০৩ 


 

Leave a Reply