কালীঘাট থেকে নিখোঁজ ঘাটশিলার তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য , সনাক্ত করল পরিবার

Khulna youth body recovered from Kalighat missing
ঘাটশিলার তরুণী সুস্মিতা রায়

আজবাংলা   কালীঘাট থেকে নিখোঁজ ঘাটশিলার তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে রহস্য। বিমানসেবিকার প্রশিক্ষণ নিতে এসে কালীঘাটের ঈশ্বর গঙ্গোপাধ্যায় স্ট্রিটে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলার তরুণীর সুস্মিতা রায় । গঙ্গা থেকে নিখোঁজ তরুণী সুস্মিতা রায়ের দেহ উদ্ধার করে উত্তর বন্দর থানার পুলিস। দেহ সনাক্ত করেছে পরিবারও। সেখান থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তরুণী সুস্মিতা রায়! পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়, ১০ ডিসেম্বর থেকে তারা সুস্মিতাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। সুস্মিতা কোথায় বলতে পারেননি বাড়িওয়ালা এবং রুমমেটরা। এরপর মেয়ের খোঁজে ঘাটশিলা থেকে কলকাতায় চলে আসে উদ্বিগ্ন পরিবার। কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ত্রিকোণ প্রেমের গল্প। উঠে আসছে ঘাটশিলারই দুই যুবকের নাম। ঘাটশিলার যুবক বিবেকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল সুস্মিতার। বিবেক ঘাটশিলাতেই একটি স্কুলে কর্মরত। বিমানসেবিকার প্রশিক্ষণ নিতে কিছুদিন আগে কলকাতায় আসেন সুস্মিতা। ট্রেনে গুরমিত বলে আরও এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ঘাটশিলার বাসিন্দা গুরমিতও। কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। তদন্তে পুলিস জানতে পারে, গুরমিত ও বিবেক পূর্ব পরিচিত। গুরমিতই নাকি বিবেকের চরিত্র খারাপ বলে সুস্মিতাকে জানিয়েছিল। অন্যদিকে, বিবেককে সুস্মিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও জানিয়েছিল গুরমিত। এই নিয়েই তিন জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সুস্মিতার রুমমেটরা পুলিসকে জানিয়েছেন, বেশিরভাগ সময়ে সুস্মিতা ঘরে দরজা বন্ধ করে ভিডিও চ্যাট করতেন। ভিডিও চ্যাট করার সময়ে তাঁকে আপত্তিকর অবস্থাতেও দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকবার।  আত্মহত্যা নাকি খুন? পুলিস জানিয়েছে, সুস্মিতার ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল হাওড়া। বুধবার সকালে গঙ্গা থেকে সুস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। সুস্মিতার দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করছে পুলিস। সুস্মিতার ফোন ঘেঁটে পুলিস জানতে পেরেছে, ১০ ডিসেম্বর টানা দেড় ঘণ্টা তিন জনে কনফারেন্সে কলে কথা বলেন। সেদিন রাতেই রুমমেটকে ঘাটশিলা যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সুস্মিতা। রুমমেটের দাবি, সুস্মিতার সঙ্গে কোনও ব্যাগ ছিল না। কেন ব্যাগ ছাড়াই ঘাটশিলা ফিরছেন, সে প্রশ্ন করলে, সুস্মিতা জানান এক দিনের মধ্যেই ফের কলকাতায় ফিরে আসবেন তিনি। মেসের এক আবাসিক জানায়, তরুণীর কাছে ফোন আসলে, মেয়েটি খুব চেঁচাত। অন্য জায়গায় গিয়ে কথা বলত। কারও নামে নম্বর সেভ করা থাকত না, ফোন আসলেই সুস্মিতা আড়ালে চলে যেতেন, জানায় এক রুমমেট।

Leave a Reply