ঘর থেকে ম্যাজিকের মতো উধাও যমজ পুত্রসন্তান। শিশুচুরির আতঙ্কে দিন কাটাছে মালদা।

Malda is spending days of childhood fears
শিশুচুরির আতঙ্কে দিন কাটাছে মালদা

আজবাংলা মালদা  ঘর থেকে ম্যাজিকের মতো উধাও হয়ে যায় যমজ পুত্রসন্তান। ঘটনার আড়াই মাস কেটে গেলেও কিনারা হয়নি কিছুই। তদন্তে নেমে জোড়া শিশু উধাও রহস্যের কোনও কিনারাই করতে পারেনি পুলিশও। আর রোজ বাড়ির উঠোনে বসে চোখের জল ঝরাচ্ছেন হতভাগ্য মা—বাবা।কার্যত দুধের শিশুদের হারিয়ে পাথর বাবা-মা। সেই সঙ্গে শিশুচুরির আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে পড়শিদের মনেও। আতঙ্কে আর শিশুদের চোখের আড়াল করছেন না সেই গ্রামের মায়েরা।এমন আতঙ্ক গ্রামবাসীদের চোখে মুখে স্পষ্ট।ভয় একটাই, যদি কেউ তাদের সন্তানকে চুরি করে পালায়! জালনোটের জেলা বলে বদনাম রয়েছে মালদা জেলার। এবার শিশু ও নারী পাচারচক্রও সমান তালে সক্রিয়। পুরাতন মালদার এই যমজ সন্তান চুরির অভিযোগ অন্তত সেটারই ইঙ্গিতবাহী। ওল্ড মালদার মাধাইপুরের চিরাহরিটোলা গ্রাম। পড়শিদের মুখে মুখে ফিরছে সেই ঘটনা। গত বছরের ১৪ অক্টোবর। মাত্র এক মাস বয়সের যমজ পুত্র সন্তানের পাশেই ঘুমিয়ে ছিলেন মাধাইপুরের দিনমজুর মৎস্যজীবী শেখ আকতারুল ও তাঁর স্ত্রী রুমেলা বিবি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, যমজ সন্তানই উধাও! কিছু নাকি টেরই পাননি পাশে ঘুমিয়ে থাকা মা—বাবা। এমনই দাবি দম্পতির। সেই দিনই ঘটনার তদন্তে গিয়ে তাজ্জব বনে যায় পুলিশও। রহস্য এতটাই ঘনীভূত যে আড়াই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মেলেনি কোনও তথ্য বা সূত্রও।আড়াই মাস পরেও পুরাতন মালদা থানার মাধাইপুরের যমজ সন্তান উধাও হওয়ার ঘটনার কোনও কিনারাই হয়নি। এবার তাই পুলিশে ভরসা হারিয়ে সিআইডি তদন্তের দাবি উঠল মাধাইপুরে। যমজ সন্তান হারানোর শোকে কাতর দম্পতিরও ঘুরেফিরে এখন একটাই আর্জি, “পুলিশ না পারলে সিআইডি তদন্ত করুক। আমরা আমাদের সন্তান চাই।” যদিও পুলিশের দাবি, জোড়া শিশু নিখোঁজের একটি মামলা রজু করে তদন্ত শুরু করা হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। শেখ আখতারুল পেশায় মৎস্যজীবী।স্ত্রী রুমেলা বিবিকে নিয়ে খুব কষ্টের সংসার। তাঁদের ছয় ও চার বছরের আরও দু’টি পুত্রসন্তান রয়েছে। ১৪ ই অক্তবর ঘটনার ঠিক এক মাস আগে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রুমেলা বিবি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সুস্থ অবস্থায় যমজ সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু শোবার ঘরের বিছানা থেকে যমজ শিশুই উধাও হয়ে যায় ১৪ ই অক্তবর রাতে। পরের দিনই শেখ আখতারুল মালদা থানার পুলিশের কাছে জোড়া শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। তারপর বাড়িতে বসে জোড়া আত্মজ—র অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মৎস্যজীবী পরিবার। মা রুমেলা বিবির অভিযোগ, “ঘরে ঘুমের ওষুধ স্প্রে করে আমাদের বেহুঁশ করা হয়েছিল। তাই আমরা কিছুই টের পাইনি। আমরা চাই সিআইডি—রা তদন্ত করুক। পুলিশ কিছুই করছে না।” গ্রামের মসজিদের ইমাম মৌলানা মোস্তাক আলি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও এই গ্রামে ঘটেনি। এতদিন পরেও রহস্যটা জানতে পারলাম না। আমরা চাই সিআইডি বা অন্য কোনও গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করুক।” পাড়ার মহিলা হাসনারা কিংবা জোরিনা বিবিরাও শিশুচুরির আতঙ্কে দিন কাটছেন।  সেভাবে প্রচারের আলোও পায়নি পুরাতন মালদার এই ঘটনা। ফলে পুলিশও সাদামাটা একটি নিখোঁজ মামলা রজু করে দায় সেরেছে বলে অভিযোগ।তবে প্রশ্ন একটাই আদৌ কি উদ্ধার হবে যমজ শিশু?  এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে গ্রামের মানুষদের মুখে।

Leave a Reply