৬ বছরে বীরভূম ও পাশের জেলা গুলির বহু রাইস মিলের মালিক অনুব্রত মণ্ডল।

Rice Mill of Birbhum and adjacent districts.
মুকুল রায় ও অনুব্রত মণ্ডল
 Rice Mill of Birbhum and adjacent districts.
মুকুল রায়অনুব্রত মণ্ডল

আজবাংলা   বীরভূমে দাঁড়িয়ে শনিবার তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রতর বিরুদ্ধে চালকল ও জমি-দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন মুকুল রায়।  তৃণমূলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধেই  আর্থিক অনিয়ম বা শাসকদলের ডাকসাইটে নেতা হিসাবে প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি পথে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ করলেন মুকুল রায়। মুকুল রায় বলেন বীরভূমের ভোলে বোম রাইস মিলের মালিক কে ? ওই রাইস মিল থেকে ২০১৬- ১৭ আর্থিক বর্ষে প্রশাসন ১৮.০২৭ বস্তা চাল অন্ত্যোদয় যোজনায় সরবরাহ করেছে এই মিল। কেন একটি মাত্র রাইস মিল থেকেই চাল কেনা হল ? তার তদন্ত করে দেখা হোক। প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কার নির্দেশে, কাকে এই সুবিধা পাইয়ে দেওয়া  হলো বলতে হবে প্রশাসনকে।  মুকুল রায় বললেন সব কাগজ হাতে নিয়ে বলছি। এটা ট্রেলার মাত্রা আর এর জবাব দিতে হবে অনুব্রতকে। মুকুল রায় আরো বলেন বোলপুর থানার অন্তর্গত কালিকাপুর, গয়েশপুর, খাসকদমপুর ও বোলপুর মৌজায় ৪২৫ কাটা জমি কেনা হয়েছে ২০১৪ সালের পরে। তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন এ সবের মালিক কে। নামটা তিনিই বলবেন।  এদিকে রাইস মিল নিয়ে কিছুই বলছেন না বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার তিনি বলেন গয়েশপুর মৌজায় জমি ২০০২ সালে কেনা হয়েছে। সেটা আমি প্রমাণ করে দিতে পারি। বীরভূমে আগের সভায় মুকুল রায় সরাসরি নাম করে বলেছিলেন, “ অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে মুখ খুললে, হয় অনুব্রত নিজে রাজনীতি ছাড়বেন অথবা দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।” মুকুলের এই চ্যালেঞ্জ পরদিনই গ্রহন করেছিলেন অনুব্রত। বলেছিলেন, “ আমি অপেক্ষায় রইলাম সেসব শোনার জন্য।” শনিবার বীরভূমের রাজনগর তাঁতিপাড়ায় বিজেপির সভামঞ্চ থেকে মুকুল রায় আপাত নির্বিষ দু’টি প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। ঠিক আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে অনুব্রত মণ্ডলকে পাশে নিয়ে বীরভূমে সভা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, ‘‘কেষ্ট (অনুব্রত)-র বিরুদ্ধে ওরা (বিজেপি) সব সময় কুৎসা করে। মাথা গরম হয়ে যায়। তার জবাব দিলেই ওর দোষ!’’ মুকুল রায়ের তোলা এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি  কিছু বলার নেই তাই ভয় পেয়েছে অনুব্রত মণ্ডল।