রাশিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপের দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামগুলো

  আজবাংলা আগামী বছর রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। চলুন দেখে নিই রাশিয়ার যে স্টেডিয়ামগুলোতে খেলা হবে, সেগুলো দেখতে কেমন।

russia-2018-world-cup
লুজনিকি স্টেডিয়াম

১৯৫২ সালের অলিম্পিকে সাফল্যের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন আরও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের প্রতি মনোযোগ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়। প্রথমে এর নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটির অবস্থান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে, মস্কোভা নদীর তীরে।  নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত স্টেডিয়ামটি ছাদবিহীন ছিল। সে সময় এর ধারণ ক্ষমতা ছিল ১ লাখ। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে স্টেডিয়ামটির ব্যাপক সংস্কার করা হয়, এতে ছাদ সংযোজন করা হয় এবং এর আসন পুনর্বিন্যাস করে ১ লাখ থেকে হ্রাস করে ৮১,০০০ এ নামিয়ে আনা হয়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে এর আকার সবচেয়ে বড়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্টেডিয়ামটি আবারও সংস্কার করা হয়। এ বছরের জুন মাসে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়। স্টেডিয়ামটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

russia-2018-world-cup-
লুজনিকি স্টেডিয়াম

১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম। প্রাক্তন কিরোভ স্টেডিয়ামের স্থানে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৫ সালে এবং শেষ হয় এ বছরের এপ্রিল মাসে। এটি মূলত স্থানীয় এফসি জেনিত স্পোর্টস ক্লাবের স্টেডিয়াম।স্টেডিয়ামটির ডিজাইন করেছে জাপানি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কিশো কুরোকাওয়া। এটি দেখতে গোলাকার মহাকাশযানের মতো। আকৃতিগত দিক থেকে এর সাথে জাপানের টয়োটা স্টেডিয়ামের কিছুটা সাদৃশ্য আছে, যার নকশাও তৈরি করেছিল কিশো কুরোকাওয়া। সেইন্ট পিটসবার্গ স্টেডিয়ামটির বর্তমান ধারণক্ষমতা ৫৬,০০০। কিন্তু বিশ্বকাপের পূর্বে এটিকে ৬৮,০০০ ধারণ ক্ষমতায় উন্নীত করা হবে। এই স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

russia-2018-world-cup-stadiums
সেইন্ট পিটসবার্গ স্টেডিয়াম

রাশিয়ার সামারা শহরের স্থানীয় ক্রাইলিয়া সোভেতভ ফুটবল ক্লাবের জন্য একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা চলছিল ২০১০ সাল থেকেই। ২০১২ সালে শহরটিকে ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বাছাই করার পর সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। এ বছরের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা আছে। সামারা স্টেডিয়ামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ৬৫.৫ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট গম্বুজাকৃতির ছাদ, যা ৩২টি প্যানেলের সমন্বয়ে গঠিত। স্টেডিয়ামটির আসন সংখ্যা হবে ৪৫,০০০। প্রাথমিকভাবে স্টেডিয়ামটি সামারা এবং ভোলগা নদীর মিলনস্থলে একটি উপদ্বীপের উপর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে পরবর্তীতে স্থান পরিবর্তন করা হয়। স্টেডিয়ামটি সামারা ছাড়াও সামারা অ্যারিনা এবং কসমস অ্যারিনা নামেও পরিচিত।

world-cup-stadiums
সামারা স্টেডিয়াম

ফিশ্‌ট অলিম্পিক স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছিল ২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য। সে সময় উদ্বোধনী এবং সমাপনী- উভয় অনুষ্ঠানই এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অলিম্পিক শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামটির তেমন কোনো ব্যবহার ছিল না। ফলে এটিকে ২০১৮ বিশ্বকাপের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়। এর বন্ধ ছাদ খোলার ব্যবস্থা করা হয় এবং এর আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৪৭,০০০ এ উন্নীত করা হয়। স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ২০১৬ সালে। স্টেডিয়ামটির অবস্থান জর্জিয়ান উপকূলের নিকটবর্তী শোচি অঞ্চলের অ্যাডলার শহরে। বিশ্বকাপে এতে প্রথম রাউন্ডের ৪টি খেলা, দ্বিতীয় রাউন্ডের ১টি খেলা এবং কোয়ার্টার ফাইনালের ১টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

world-cup-stadiums
ফিশ্‌ট স্টেডিয়াম

বর্তমানে নির্মাণাধীন ভোলগোগ্রাদ অ্যারিনা স্টেডিয়ামটির অবস্থান রাশিয়ার দক্ষিণের ভোলগোগ্রাদ শহরে, ঠিক ভোলগা নদীর পাড়ে। এটি নির্মাণ করা হচ্ছে প্রাক্তন সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামের স্থানে, যা ছিল শহরটির প্রধান স্টেডিয়াম। ২০১৪ সালে পুরাতন স্টেডিয়ামটি ভূমিসাৎ করার পর ২০১৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এর নির্মাণ সর্বশেষ পর্যায়ে আছে। এ বছরের শেষের দিকে এটি উদ্বোধন করা হতে পারে। ভোলগোগ্রাদ স্টেডিয়ামটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এর তারের সাহায্যে ঝুলন্ত ছাদ এবং জালিকাবিশিষ্ট বাইরের আবরণ। স্টেডিয়ামটির আসন সংখ্যা হবে ৪৫,০০০। তবে বিশ্বকাপের পর উপরের সারির আসনগুলো সরিয়ে একে ৩৫,০০০ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামে পরিণত করা হবে। বিশ্বকাপের পর স্টেডিয়ামটি স্থানীয় রোটর ভোলগোগ্রাদ ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

world-cup-stadiums
ভোলগোগ্রাদ স্টেডিয়াম

মোর্দোভিয়া অ্যারিনা স্টেডিয়ামটি সারানস্ক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। ২০১০ সালে সর্বপ্রথম এটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। ২০১১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও, অর্থায়নের অভাবে কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হয়। ২০১২ সালের পর কাজ প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয়। এ বছরের শেষ নাগাদ কাজ সম্পন্ন হতে পারে। মোর্দোভা অ্যারিনার আসন সংখ্যা হবে ৪৫,০০০। তবে বিশ্বকাপের পর ছোট শহর সারানস্কার জন্য এত বেশি আসন সংখ্যার প্রয়োজন হবে না। ফলে উপরের সারির ১৭,০০০ আসন সরিয়ে একে ২৮,০০০ ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট স্টেডিয়ামে পরিণত করা হবে। সরিয়ে ফেলা আসনগুলোর স্থানটি উন্মুক্ত রাখা হবে, যেখানে দর্শকরা হাঁটাচলার করতে পারবে।

world-cup-stadiums
সারানস্ক স্টেডিয়াম

 

world-cup-stadiums
রুস্তভ অ্যারিনা স্টেডিয়াম

রুস্তভ অ্যারিনা স্টেডিয়ামটি রাশির রুস্তভ-অন-ডন শহরে নির্মাণাধীন একটি স্টেডিয়াম। দীর্ঘদিন ধরেই এই শহরে এফসি রুস্তভ ফুটবল ক্লাবের জন্য একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হয়।

২০১২ সালে এর ডিজাইন চূড়ান্ত হয় এবং ২০১৩ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ বছরের শেষের দিকে এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা আছে। স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা হবে ৪৫,০০০।

 

 

 

Leave a Reply