ব্রিটেনের বিরাজমান ধ্বংসাত্মক কট্টর ইসলামি সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন ,ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

Theresa May & Donald Trump
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে
Theresa May & Donald Trump
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে

আজবাংলা মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও পোস্ট নিয়ে নিন্দা জানানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কবলে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যকলাপের দিকে নজর না দিয়ে নিজের দেশের সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর ফেরানোর জন্য থেরেসাকে পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। হঠাৎ করে এ দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে তিনটি মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশ উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠী ‘ব্রিটেন ফার্স্টের’ পোস্ট করা তিনটি মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও রিটুইট করেছেন ট্রাম্প। আর ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে বুধবার ট্রাম্পের ওই কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন থেরেসা মে। এ পদক্ষেপকে ‘ভুল হিসেবে আখ্যা দেন। আর তাতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ট্রাম্প। নতুন টুইট করে ট্রাম্প থেরেসাকে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার দিকে নজর দিয়েন না, ব্রিটেনের বিরাজমান ধ্বংসাত্মক কট্টর ইসলামি সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন।’ উগ্র-ডানপন্থি ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা ২০১১ সালে ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ গোষ্ঠীটি তৈরি করেছেন। যে ভিডিওগুলো ট্রাম্প শেয়ার করেছেন সেগুলো ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ গোষ্ঠীর উপনেতা জায়দা ফ্রানসেনের পোস্ট করা। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম শরণার্থী ক্রাচে ভর দিয়ে থাকা এক ওলন্দাজ বালককে আঘাত করছে। এরকম আরও দুটি ভিডিও টুইট করেন ফ্রানসেন। সেগুলোর একটিতে দেখা যায় এক দল লোক এক বালককে ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে এবং আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন ভার্জিন ম্যারির ভাস্কর্য নষ্ট করছে। দুটি ভিডিওতেই আক্রমণকারী ব্যক্তিদেরকে মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই ভিডিওগুলোই রিটুইট করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। থেরেসা মেকে আহ্বান জানানো হয় তিনি যেন ট্রাম্পের রিটুইটের নিন্দা করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে-র মুখপাত্র বলেন, ‘এই কাজ করে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ভুল করেছেন।’ উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীটি সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে আগামী বছর ট্রাম্পের সম্ভাব্য ব্রিটেন সফরের ওপর এ ঘটনার প্রভাব পড়বে না বলে থেরেসা মে’র কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়েছে।